নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সহকর্মীদের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (প্রকৌশলী) রকিবুল ইসলাম তালুকদার। পেশাগত দক্ষতা, চৌকস ও অভিজ্ঞতার কারণে তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে একজন গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন ও অপপ্রচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর পেশাগত সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য ছড়াচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে একজন প্রকৌশলী হিসেবে রকিবুল ইসলাম তালুকদার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। তাঁর বিরল দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি আজ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হোক। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ সত্য হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সংবাদমাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা ন্যায়সঙ্গত নয়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যেসব প্রকল্প বা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে একজন সদস্য প্রকৌশলীর প্রকৃত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটুকু ছিল, সেটিও সংবাদ প্রকাশের আগে খতিয়ে দেখা আবশ্যক।
সার্বিক বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য (প্রকৌশলী) রকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনিয়ম বা অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।” প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করা অবশ্যই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।”
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হোক। মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে তাতে শুধু একজন কর্মকর্তার ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না—পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়।” সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “সময়ই সব কিছুর নির্ণায়ক, এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।”